BLANTERORBITv101

পড়ালেখা নাকি লেখাপড়া? কোনটা হবে? চিন্তাই পড়ে যান এক্ষুনি!

Wednesday, April 1, 2020

আস্সালামু আলাইকুম

সুপ্রিয় বন্ধুরা, আশা করি আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছেন। ভালো না থাকলে আপনার সাথে আছি আমি রাকিবুল হোসাইন।
বন্ধুরা কখনো কি এটা নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন যে লেখাপড়া নাকি পড়ালেখা? তাহলে পড়ে নিন নিচের লিখাটি।

পড়ালেখা নাকি লেখাপড়া

একটি সমাজ বৈজ্ঞানিক ভাবনা ছোটবেলায় ‘লেখাপড়া’ ও ‘পড়ালেখা’ এই দুটি শব্দ নিয়ে ধাঁধায় পড়ে যেতাম পরীক্ষার খাতায় রচনা লিখতে দিলে সঠিক শব্দটি ব্যবহারের সময় কখনো হয়ে যেত পড়ালেখা আবার কখনো কখনো লেখাপড়া। কখনো কোনো শিক্ষকের কাছে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করিনি কারণ ভেবেছি ওই একটা হলেই হলো। দীর্ঘ দশ বছরের নিরবচ্ছিন্ন গবেষণার পর আজ সত্য উদ্ধার করতে পেরেছি আসল শব্দবাবাজির। সঠিক শব্দটি ব্যাখ্যার পরে বলছি। প্রত্যেকটা অক্ষরজ্ঞানপূর্ণ এবং সুস্থ মানুষই একেকজন লেখক। জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে তাকে লেখার সম্মুখীন হতে হয় কিন্থ পরিসর কী একটা ‘সিগনেচার’ নাকি সুকান্ত হবে নাকি রবীন্দ্রনাথ তার থেকে বড় কথা হলো সে কী লিখছে এবং কবে লিখছে। ধরে নেওয়া হলো সুনীল কাকুর বয়স গোটা করে পঞ্চাশের বেশি কিন্থ কাকু আজও নিজের নামের বেশি লিখতে পারে না কিন্থ মৃণালিনীর বয়স বিশ হলেও সে কিন্থ বেশ কবিতা লিখে যাচ্ছে। দৈবযোগে কিংবা জন্মগত বিদ্বানবলে কিছুর অস্তিত্ব খোঁজার আগে আমি এটা ভাবি যে জন্মগতভাবেই বৈজ্ঞানিক উপায়েই কারোর কিছু ধারণ, অনুধাবন এবং রক্ষিত করার ক্ষমতাগুলো হয়তো বেশি থাকে। সে যাই হোক, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ‘লেখা ও পড়া’ কিংবা ‘পড়া ও লেখার’ যে পূর্বোত্তর সম্পর্ক সে সম্পর্কের সার্বজনীন আলোচনাই হচ্ছে আজকের আলোচনা। জন্মের পর যখন অর্থহীন কিন্থ অনুভূতিপ্রবণ কিছু আওয়াজ করার পর্ব শেষ করব করব ঠিক এমন সময় ‘মা’ বলানোর চেষ্টা করলেন আমার নিজের ‘মা’।
WizBD.Com
শব্দটি আমিও পড়তে শুরু করলাম এবং শিখেও গেলাম। এই যে ‘মা’ শব্দটি পড়া এবং পারা এটার লেখ্য ভার্সন বোধহয় সর্বপ্রথম বের হয় যে ক্লাসে ‘মা’ রচনাটি লিখতে বলা হয়েছিল। কথ্য ‘মা’ ভার্সন লেখ্য হতে প্রায় নয়-দশ বছর লাগিয়ে দিয়েছে। এই যে পড়া থেকে লেখার সামাজিকীকরণ এর বিপরীত প্রতিফলন একজন সাহিত্যিকের সাহিত্যচর্চায় যে কতটুকু প্রভাব ফেলতে পারে তা বাল্যবিবাহে নারীর ক্ষতিসাধনের প্রায় সমান কিংবা বেশি। আমার মোদ্দাকথা হচ্ছে ‘দশ লাইন পড়া, এক লাইন লেখা’ কিন্তু আমরা লেখকরা করি ঠিক উল্টোটা….’দশ লাইন লেখা, এক লাইন পড়া’। ঠিক এই জায়গাতেই হয় সমস্যাটি। দশ লাইন পড়া মানে অনেক অনেক পড়া, জ্ঞান কুড়ানো, ভাবতে লাগা এবং সে জ্ঞানের আলো যখন কলম পর্যন্ত পৌঁছাবে ঠিক তখনি এক লাইন লেখা মানে লেখা শুরু করা, ওই পড়ার শৈল্পিক বারোয়ারী প্রতিফলন। প্রাচীন কিংবা মধ্যযুগীয় সাহিত্যচর্চায় একজন লেখক হয়তো পড়ার জন্য বর্তমানের মতন সর্বত্র ভুরি ভুরি বই খুঁজে পাননি কারণ লেখার কালি এবং খাতার আবিষ্কার হয়নি কিন্তু প্রশ্ন হলো তারা কীভাবে এত এত লেখা এবং ভাবনা পরবর্তীকালে ছড়িয়ে দিয়ে গেছেন। ধর্মীয় গ্রন্থ এবং কিছু পুরনো পুঁথিই ছিল সেকালের পড়ার বস্তু কিন্তু যেই ‘প্রাকৃতিক পরিবেশ’ তারা পেয়েছিলেন সেই একই সুসজ্জিত প্রাকৃতিক পরিবেশ কী আমরা পাচ্ছি? গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ১৫০০ শতকের সময় থেকেই মূলত পৃথিবীর অস্তিত্ব ধীরে ধীরে বিপন্ন হয়ে শুরু করে। এখন সেই অবস্থা আরও গতিশীল হয়েছে। সুতরাং চাইলেও আগের মতন প্রাকৃতিক পরিবেশ আমরা ফিরে পাবো না। এটা বৈজ্ঞানিক ভবিষ্যদ্বাণী। আমি যে কেন এত গুরুত্ব দিয়ে এই প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে লেখকের লেখনীর মানের কথা বলছি সে কথা ওই সেকেলে গ্রন্থাভাবী পুরোধা লেখকরাই জানেন। শিল্পায়িত একবিংশ শতকের কলমযোদ্ধারা সেই পরিবেশকে হারিয়ে ফেলেছে অনিবার্যভাবেই তাই বলে কি প্রকৃতির সঙ্গে সেই নিবিড় সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে নাকি! বাঙালির ভরসার কথা বলি, যত মুস্কিল তত আসান বলে গেছেন সাকিব আল হাসান’। প্রকৃতির সঙ্গে বর্তমান লেখকদের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই প্রকৃতিপ্রেমী সেই লেখকদের গবেষণা বই, ভ্রমণবৃত্তান্ত বেশি বেশি পড়া ও অনুধাবন করা। আর সেকারণে আগে চাই বেশি বেশি পড়া। সুতরাং লেখনীর সার্বিক উন্নয়নে অর্থাৎ ভাবনার গভীরতা, শব্দচয়ন, সঠিকতা এবং যুগোপযোগী আলাপের প্রতিফলন তখনই ঠিকঠাক হবে যখন একজন উদীয়মান লেখকের মূলমন্ত্র হবে ‘দশ লাইন পড়া, এক লাইন লেখা’। আর বোধহয় ‘পড়ালেখা’ ও ‘লেখাপড়া’ শব্দদ্বয় নিয়ে ঝামেলা হবে না। যখন পড়া দিয়ে জীবন শুরু আর পড়া দিয়েই লেখক হওয়া চাই তখন ‘পড়ালেখা’ শব্দটাকে সঠিক বলে ঘোষণা দিয়ে দিলাম আমার শব্দকোষে। আগে পড়া তারপর লেখা, দশবার পড়া একবার লেখা। পড়ালেখা। এই লেখনীর লেখকও একই রথে চড়ে বসে ছিলেন।

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে।
সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থকবেন।
আল্লাহ্ হাফেজ।



from WizBD.Com https://ift.tt/2X5LZGb
via sayem

Author

Abu Sayem